বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) নিজস্ব অর্থায়নে কেনা দুটি অত্যাধুনিক বাল্ক ক্যারিয়ারের প্রথমটি ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ বহরে যুক্ত হওয়ার পরপরই বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করেছে। মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই জাহাজটি অগ্রিমসহ প্রায় ৪ লাখ ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার—বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা আয় করেছে। বিএসসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে জাহাজটি দেশে পৌঁছাবে।
বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, আধুনিক কারিগরি বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি সমৃদ্ধ এই জাহাজটি যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিএসসির রাজস্ব আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এর আগে ২৩ অক্টোবর চীনের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জিনজিয়াং নানইয়াং শিপইয়ার্ডে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসি জাহাজটি বিএসসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পর জাহাজগুলোর নাম পরিবর্তন করে ‘এক্সসিএল জেমিনি’ থেকে ‘এমভি বাংলার প্রগতি’ এবং ‘এক্সসিএল লায়ন’ থেকে ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ করা হয়।
চুক্তি ও ক্রয় প্রক্রিয়া
গত ২১ সেপ্টেম্বর বিএসসি ও হেলেনিক ড্রাই বাল্ক ভেঞ্চারস এলএলসির মধ্যে দুটি আধুনিক বাল্ক ক্যারিয়ার সংগ্রহে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে ১২ আগস্ট সরকারি ক্রয়–সংক্রান্ত মন্ত্রিপরিষদ উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির সভায় জাহাজ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন পায়।
প্রতিটি জাহাজের ধারণক্ষমতা ৬৩,৫০০ ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি) এবং দুটি জাহাজের মোট মূল্য ৭৬.৬৯৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৩৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা)। এ মূল্য দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪.৬০ শতাংশ কম।
ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় তিনটি উপ–কমিটি গঠন করে, যার মধ্যে ছিল দরপত্র উন্মুক্তকরণ, দরপত্র মূল্যায়ন ও কারিগরি সাব–কমিটি।
আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি
‘এমভি বাংলার প্রগতি’ জাহাজে রয়েছে কন্ট্রা রোটেটিং প্রপেলার, এরোডাইনামিক ব্রিজ ডিজাইন, আধুনিক হাল ফর্ম, সিলেক্টিভ ক্যাটালিটিক রিডাকশন সিস্টেম ও গ্রিন শিপ কনসেপ্ট, যা জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাহাজের ইঞ্জিন জার্মান লাইসেন্সে তৈরি ম্যান-বি&ডব্লিউ, পাম্প স্পেনের, এবং কম্প্রেসার নরওয়ের তৈরি। এটি আইএমও টিয়ার-III সার্টিফাইড, যা আন্তর্জাতিক পরিবেশগত মানদণ্ড পূরণ করে।
বহরে সক্ষমতা বৃদ্ধি
নতুন জাহাজ যুক্ত হওয়ার আগে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) বহরে পাঁচটি জাহাজ ছিল—এর মধ্যে তিনটি অয়েল ট্যাংকার এবং দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার। বর্তমানে বিএসসির বহরে মোট ছয়টি জাহাজ রয়েছে: তিনটি অয়েল ট্যাংকার ও তিনটি বাল্ক ক্যারিয়ার।
‘এমভি বাংলার প্রগতি’ যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে বিএসসির নিজস্ব পরিবহন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ডেডওয়েট টন (ডিডব্লিউটি)। আগামীতে দ্বিতীয় জাহাজ ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ যুক্ত হলে কর্পোরেশনের মোট পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডেডওয়েট টনে।
চীনে আয়োজিত হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জাহাজটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেন। এ সময় নির্বাহী পরিচালক (প্রযুক্তি) ইঞ্জি. মোহাম্মদ ইউসুফ, সচিব আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম, প্রকল্প পরিচালক ক্যাপ্টেন জামাল হোসেন তালুকদার এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সাইফুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
বিএসসির অপর জাহাজ ‘এমভি বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ডিসেম্বরে বহরে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।