গত দুই বছরে চট্টগ্রামে প্রায় ১৯০টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অন্তত ৩০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, আর্থিক সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়া, মালিকানা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সৃষ্ট অনিশ্চয়তা—এসব কারণে শিল্পখাত বড় ধরনের চাপের মুখে পড়েছে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলোর মধ্যে ওয়েল গ্রুপের পাঁচটি কারখানার তিনটিই ২০২৪ সালের আগস্টের পরপরই উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। বাকি দুটি কারখানা সীমিত পরিসরে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শিল্প পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ওয়েল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতা এবং সাবেক সংসদ সদস্য। সরকার পরিবর্তনের পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। তার দাবি, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা কয়েকটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনাগত সংকটে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে দখল-বেদখল ও মালিকানা পরিবর্তনের ঘটনাও ঘটেছে, যা উৎপাদন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
চট্টগ্রাম শিল্প পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ পারভেজ তালুকদার বলেন, কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে বিকল্প কর্মসংস্থান পেয়েছেন। কেউ ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাচ্ছেন, কেউ হকারি করছেন, আবার কেউ ফুটপাতে ছোট ব্যবসা শুরু করেছেন। তবে তুলনামূলক বেশি বয়সী অনেক শ্রমিক এখনো নতুন কাজ না পেয়ে বেকার অবস্থায় রয়েছেন।
শিল্প খাত সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা না গেলে এবং নতুন বিনিয়োগ না এলে চট্টগ্রামের শ্রমবাজার ও স্থানীয় অর্থনীতিতে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।