সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে বাজারে মিলছে না ডিম, আলু ও পেঁয়াজ। ব্যবসায়ীরা পণ্য তিনটি বিক্রি করছেন আগের মতোই ইচ্ছামতো দামে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি পর্যায়ে ও আড়তে না কমলে তাদের কম দামে বিক্রি করার সুযোগ নেই। এদিকে দাম কমার খবর শুনে বাজারে গিয়ে হতাশ হচ্ছেন ক্রেতারা।
দাম নির্ধারণের পাশাপাশি সরকার কঠোরভাবে বাজার তদারকিরও ঘোষণা দিয়েছে। ভোক্তা অধিদপ্তর, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাই বাজারে তদারকি করবে বলা হলেও গতকাল শুক্রবার ভোক্তা অধিদপ্তর ছাড়া কেউ বাজারে নামেনি।
ভোক্তারা বলছেন, সরকার দাম বেঁধে দিয়েই দায় সারছে। তারা নিত্য ঠকেই যাচ্ছেন। সরকারের নির্দেশনা মানছে না কেউ। শুধু মুখে না বলে সরকারের উচিত প্রতিটি ধাপে পণ্যের মজুত পর্যালোচনা করা এবং বাজারে যথাযথ সরবরাহ নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে মাঠে না নামালে অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
নির্ধারিত দর কার্যকর না হলেও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি দাবি করেছেন পেঁয়াজ, আলু ও ডিমের দাম শক্তভাবে তদারকি করা হচ্ছে। তবে ভোক্তা অধিদপ্তরে লোকবলের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এ সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুবিধা নিচ্ছেন। এর পরও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাই মিলে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।
গতকাল রংপুরে নিজ বাসভবনে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এদিকে সরকারের সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কার্যকর করা কঠিন। কারণ, খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে নতুন দরের পণ্য পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। তাই তারা এখন উৎপাদন ও মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং এসব পর্যায়ে নির্ধারিত দাম কার্যকরের বিষয়ে বেশি মনোযোগী। এসব স্তরে দাম স্বাভাবিক হলে খুচরায় নির্ধারিত দর কার্যকর হবে বলে মনে করেন তারা।
গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় তিনটি পণ্যের দাম বেঁধে দেওয়ার ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তখন তিনি জানান, ওই দিন থেকেই খুচরা পর্যায়ে প্রতিটি ডিমের দাম হবে সর্বোচ্চ ১২ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৬ এবং দেশি পেঁয়াজ ৬৫ টাকা। তবে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ৯টি খুচরা বাজার ঘুরে সরকারি নির্দেশনার প্রতিফলনের চিত্র দেখা যায়নি। এসব বাজারের কোনোটিতে পণ্য তিনটি নির্ধারিত দরে বিক্রি হয়নি। দেশের অন্যান্য স্থানেও দাম কমেনি।
রাজধানীর খিলগাঁও, শান্তিনগর, মগবাজার, তেজকুনিপাড়া ও কারওয়ান বাজারে প্রতি কেজি আমদানি করা পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৬৫, দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, সাদা আলু ৪৮ থেকে ৫০, লাল আলু ৫০ থেকে ৫৫ টাকা এবং ডিমের হালি ৫০ থেকে ৫২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সেই হিসাবে প্রতিটি ডিমের দাম পড়ছে ১৩ টাকা। খিলগাঁওয়ের তাসিফ স্টোরের বিক্রয়কর্মী সমকালকে বলেন, আগে বেশি দামে কেনা পণ্য এখন কম দামে বিক্রি সম্ভব নয়। পাইকারিতে কমলে খুচরা বিক্রেতারাও কমাতে পারবেন।
তবে এসব বাজারের চেয়ে পণ্য তিনটি আরও বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার, নারিন্দা কাঁচাবাজার, ওয়ারী ও দক্ষিণ মৈষণ্ডী অঞ্চলে। এসব এলাকায় খুচরা দোকানে ডিমের হালি ৫৫ থেকে ৫৭ টাকা, সাদা আলু ৫০ থেকে ৫২, লাল আলু ৫৫ টাকা, আমদানি করা পেঁয়াজ ৬৫ থেকে ৬৮ এবং দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।