বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে বন্ধ হয়ে পড়েছে রেলযোগে চট্টগ্রাম থেকে অন্যত্র পণ্য পরিবহন। এতে চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করতে পারেনি ৯টি পণ্যবাহী ট্রেন। আটকে থাকা এসব কনটেইনার, তেল ও খাদ্যপণ্যবাহী ট্রেনের কারণে বন্দরের গুডস ইয়ার্ডে (সিজিপিওয়াই) জট সৃষ্টির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সময়মতো আমদানি পণ্য না পৌঁছালে বিপাকে পড়বেন আমদানিকারকরাও।
জানা গেছে, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ৪টি কনটেইনার ট্রেন সিজিপিওয়াই থেকে ঢাকা আইসিডিতে এবং অন্তত ৩টি তেল ও গমবাহী ট্রেন দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করে। কর্মবিরতির কারণে বর্তমানে দিনে সাতটি ট্রেনের চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাত ৮টায় গমবাহী একটি ট্রেন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা তেজগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলেও পরবর্তী ৩টি ট্রেন শিডিউল অনুযায়ী যাত্রা করতে পারেনি। প্রতিটি কনটেইনার ট্রেনে ৩১টি বগিতে ৬২ টিইইউ (বিশ ফুট একক) পণ্য পরিবহন হয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে পরে এ জট সারতে কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে বলেও জানা যায়।
সিজিপিওয়াই-এর প্রধান ইয়ার্ড মাস্টার আবদুল মালেক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরেও সিজিপিওয়াই-তে পণ্যবোঝাই ছয়টি কনটেইনার ট্রেন অপেক্ষমান রয়েছে। এ ছয়টি কনটেইনার ট্রেনের মোট ৩৭২ টিইইউ পণ্য ঢাকা কমলাপুর আইসিডিতে পাঠানোর অপেক্ষায় আছে। পাশাপাশি রংপুর, সিলেট এবং শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে তেলবাহী আরও ৩টি ট্রেন বন্দরে বোঝাই অবস্থায় আছে।’
এ নিয়ে বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরোয়ার্ডার অ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট খায়রুল আলম সুজন বলেন, ‘রেল শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে পরিস্থিতিকে আরও জটিল হচ্ছে। বন্দরের ইয়ার্ডে কনটেইনার পড়ে থাকলে স্টোর রেন্ট বাড়বে। এছাড়া সময়মতো পণ্য গন্তেব্যে না পৌঁছালে উৎপাদন ও বিপণন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা আছে। তাই এ সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিক ভূমিকার অপেক্ষার আছে সকল আমদানি ও রপ্তানিকারকরা।’