ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে আবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় প্রধান তারেক রহমানই প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন। এখন দলীয় অন্দরমহল ও রাজনৈতিক মহলে মূল আলোচনা নতুন মন্ত্রিসভা নিয়ে। সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় কাদের নাম থাকছে, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা।
বিএনপির নীতিনির্ধারকেরা এখন ব্যস্ত তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তুতিতে।
বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবারের মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞদের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবীদের প্রাধান্য থাকবে। বয়োজ্যেষ্ঠ অনেক নেতাকে মন্ত্রিসভায় না-ও দেখা যেতে পারে। পুরো দেশ ও বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
নতুন সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভার বিষয়ে দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন সাংবিধানিক পদ ও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে কারা থাকতে পারেন—তা নিয়ে প্রাথমিকভাবে একটি খসড়া তালিকা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, ভবিষৎ রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
প্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর দায়িত্বে তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে সম্ভাব্য নাম অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন এবং ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নিতাই রায় চৌধুরী-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
মন্ত্রিসভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন সালাউদ্দিন আহমেদ। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হতে পারেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য নাম আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ড. হুমায়ূন কবির-এর নাম শোনা যাচ্ছে।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন রেজা কিবরিয়া। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন এহসানুল হক মিলন এবং শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে সাঈদ আল নোমান। আইনমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য নাম মো. আসাদুজ্জামান।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন আন্দালিব রহমান পার্থ এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে মাহাদী আমীন। পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন আব্দুল মঈন খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য নাম খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং শিল্পমন্ত্রী হিসেবে আব্দুল আউয়াল মিন্টু-এর নাম শোনা যাচ্ছে। নৌপরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পেতে পারেন হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী হিসেবে নজরুল ইসলাম খান, পানিসম্পদমন্ত্রী হিসেবে আসাদুল হাবিব দুলু এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী হিসেবে ফজলুর রহমান-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য নাম আমান উল্লাহ আমান। সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে জোনায়েদ সাকি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে এ জেড এম জাহিদ এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে আলি আসগর লবি-এর নাম শোনা যাচ্ছে।
ধর্মমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকতে পারেন শামীম কায়সার লিংকন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী হিসেবে সম্ভাব্য নাম আলতাফ হোসেন চৌধুরী। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী হিসেবে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং কৃষিমন্ত্রী হিসেবে শামসুজ্জামান দুদু-এর নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী হিসেবে মীর্জা আব্বাস, ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী হিসেবে নুরুল হক নূর, রেলমন্ত্রী হিসেবে গয়শ্বর চন্দ্র রায়, জনপ্রশাসনমন্ত্রী হিসেবে ইসমাইল জবিউল্লাহ, সমাজকল্যাণমন্ত্রী হিসেবে রুহুল কবির রিজভী এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে দীপেন দেওয়ান-এর নাম রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।
দলীয় সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি। রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি ও শপথ গ্রহণের পরই মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত রূপ জানা যাবে।