দেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে সর্বজনীন পেনশন স্কিম। সরকারি চাকরিজীবী ব্যতীত দেশের সকল নাগরিককে এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়স হলে এই স্কিমে অংশ নেওয়া যাবে। অর্থাৎ সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অংশ নিতে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক। তবে ব্যতিক্রম আছে, প্রবাসীদের জন্য।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের সর্বস্তরের জনগণকে সুবিধা দিতে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। বিশেষ করে, গড় আয়ু বৃদ্ধির কারণে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে। ফলে তাদের সামাজিক নিরাপত্তা দেবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা।
বলা হয়েছে, যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তারা পাসপোর্ট দিয়েও নিবন্ধন করতে পারবেন। সেক্ষেত্রে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে তার কপি জমা দিতে হবে।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন করতে upension.gov.bd ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে গিয়ে ব্যক্তি তার জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল দিয়ে কয়েকটি ধাপে নিবন্ধন করতে হবে। এ সময় ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য দরকার হবে। কেউ চাইলে এক বা একাধিক ব্যক্তিকে নমিনি করতে পারবেন।
পেনশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিবন্ধনকারী ব্যক্তি চাইলে মাসিক, ত্রৈমাসিক অথবা বাৎসরিক— এই তিনভাবে চাঁদা জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত তারিখের মধ্যে চাঁদা দিতে ব্যর্থ হলে তার পরের এক মাস পর্যন্ত জরিমানা ছাড়া চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। এরপর থেকে প্রতি দিনের জন্য ১ শতাংশ বিলম্ব ফি যুক্ত হবে। টানা তিন কিস্তি পরিশোধ না করলে অ্যাকাউন্ট স্থগিত হয়ে যাবে। তবে কেউ নিজেকে অসচ্ছল ঘোষণা করলে ১২ মাস পর্যন্ত চাঁদা না দিলেও অ্যাকাউন্ট স্থগিত হবে না।
পেনশন কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, অনলাইন এবং যেকোনো মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে চাঁদা পরিশোধ করা যাবে। সেক্ষেত্রে আপাতত সোনালী ব্যাংকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের হিসাব খোলা হয়েছে। কেউ চাইলে সরাসরি সোনালী ব্যাংকে গিয়েও নিবন্ধন ও চাঁদা দিতে পারবেন।
পঞ্চাশোর্ধ ব্যক্তিরাও সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে পারবেন। সেক্ষেত্রে পেনশন পেতে তাকে টানা ১০ বছর চাঁদা দিতে হবে। অর্থাৎ স্কিম অনুযায়ী ব্যক্তির বয়স ৬০ বছর হলেই তিনি সরকার থেকে পেনশন পেতে শুরু করবেন, তাকে আর চাঁদা দিতে হবে না। কিন্তু কেউ যদি ৫৫ বছর বয়সে এসে স্কিমে অংশ নেন, তাহলে ৬৫ বছর বয়স থেকে তিনি পেনশন পেতে শুরু করবেন।