চট্টগ্রাম নগরের শপিংব্যাগ সুপারমার্কেট থেকে ১ কেজি ওজনের পূর্ণ ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধ কেনেন ক্রেতা ইসহাক হোসেন। প্রান কোম্পানির এক কেজি দুধের দাম রাখা হয় ৮৪০ টাকা। তবে বিপত্তি বাধে বাসায় যাওয়ার পর। তার মা দুধের প্যাকেট খুলতে গিয়ে দেখেন একদিন আগেই দুধের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে। বিষয়টি নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরেন ইসহাক।
এবিষয়ে ইসহাক অভিযোগ করে বলেন, গত ৭ মে রাত ৯টা ৩২ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডে শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেট থেকে ১ কেজি ওজনের পূর্ণ ননীযুক্ত গুঁড়ো দুধ কেনেন। যার ইনভয়েস নং— 1525050700152। ৮৪০ টাকা দিয়ে দুধ কিনে বাসায় ফেরার পর দেখতে পান দুধের মেয়াদ একদিন আগেই শেষ হয়ে গেছে। নামী সুপারমার্কেটে মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রিতে অবাক হয়ে যান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ভরসা করেই মানুষ সুপারশপে যায়। নামিদামি সুপারশপের প্রতি মানুষ অধিক আস্থা রাখে। কিন্তু সেই সুপারশপেও যখন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রি হবে তখন মানুষের আস্থা উঠে যাবে। পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষকে আরও অধিক দায়িত্বশীল হতে হবে।
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির বিষয়ে শপিংব্যাগ সুপারমার্কেট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়। শপিং ব্যাগ সুপারমার্কেটের নির্বাহী পরিচালক সাদেক খানের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে আপনাকে জানাচ্ছি।
মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির যৌক্তিকতা কী এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির কোনো যৌক্তিকতা নেই। মেয়াদোত্তীর্ণ কোনো প্রোডাক্ট বিক্রি করার কোনো যৌক্তিকতা থাকার কথা না। এব্যাপারে আমি খোজ খবর নিয়ে দেখি।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সিনিয়র সহ সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মানেই তো অবৈধ। মানুষ আস্থার জায়গা থেকেই নামিদামি সুপার শপ থেকে পণ্য কেনে। সেই আস্থার জায়গা ঠকাচ্ছে, প্রতারণা করছে। এবিষয়ে ভোক্তা অভিযোগ করে প্রতিকার চাইতে পারে। সরকারের দায়িত্বশীলরা এবিষয়ে আরও কঠোর হবে বলে আশা রাখি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য মানে মূলত নষ্ট পণ্য। বিশেষত সেটি যখন হয় খাবার, তখন তা থেকে সৃষ্টি হয় মানুষের জীবনহানির শঙ্কা, কিংবা কোনো মারাত্মক রোগের আশঙ্কা। শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে দুধের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ভোক্তা ঠকলে সে অভিযোগ দাখিল করতে পারবে। ভোক্তা অভিযোগ দাখিল করলে আমরা শুনানি করবো অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমরা ব্যবস্থা নিবো।