পদ্মা অয়েল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ই-মেইলের মাধ্যমে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নিয়েছেন। তিনি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।
গত ৪ মে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান আবদুস সোবহান। ছুটি ছিল ১০ মে পর্যন্ত। তবে দেশে ফিরে না এসে তিনি বুধবার (১৪ মে) বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান বরাবর ই-মেইলের মাধ্যমে তাঁর অব্যাহতি পত্র পাঠান।
পারিবারিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা। তিনি জানান, আবদুস সোবহান অব্যাহতি পত্রে পারিবারিক কারণ উল্লেখ করেছেন। তার চাকরির মেয়াদ ইতোমধ্যে ২৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। ফলে সরকারি বিধি অনুযায়ী তিনি ইচ্ছা করলেই স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়তে পারেন।
গ্রিন কার্ড থাকায় ফিরছেন না
পদ্মা অয়েল সূত্রে জানা গেছে, আবদুস সোবহানের যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড রয়েছে। তার স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানে বসবাস করেন। এর আগেও গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভিসা জটিলতায় পড়েন তিনি। এবার তিনি স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলে আবদুস সোবহান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আমার পরিবারের সবার গ্রিন কার্ড রয়েছে। আমি আগেও ঝামেলায় পড়েছিলাম। তাই স্থায়ীভাবে এখানেই থাকছি। সরকারি নিয়মে ২৫ বছরের বেশি চাকরির পর ইচ্ছায় চাকরি ছাড়া যায়, আমি সেটাই করেছি।”
তবে সরকারি চাকরিতে থেকে গ্রিন কার্ড রাখা কতটা বৈধ— এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “গ্রিন কার্ড রাখা যায়, এতে কোনো সমস্যা নেই। কাউকে জানানোর দরকার নেই।”
নিয়মের ব্যত্যয় কি না—বিশেষজ্ঞদের মত
তবে সরকারি চাকরির বিধিমালায় গ্রিন কার্ডের বৈধতা নিয়ে রয়েছে বিভ্রান্তি। সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও সরকারি চাকরি বিধিমালার বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া বলেন, “সরকারি চাকরিজীবীর বিদেশি নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি নেওয়া নিয়মবিরুদ্ধ। সরকারি চাকরিতে থাকা অবস্থায় এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
বিপিসি চেয়ারম্যান আমিন উল আহসান বলেন, “আমি তার অব্যাহতির ই-মেইল পেয়েছি। এখন বিধি অনুযায়ী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে। তবে তার গ্রিন কার্ড থাকার বিষয়টি আমার জানা ছিল না।”