মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
অপরাধ-দুর্নীতি

দশকে দশকে পাথর লুট, পাথরচাপা প্রাণহানি

নিজস্ব প্রতিবেদক | ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা ও তৎসংলগ্ন এলাকায় গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলমান পাথর লুটের ঘটনা এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। পাহাড় কেটে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে শুধু পরিবেশ ধ্বংস নয়, ঘটেছে অসংখ্য প্রাণহানির ঘটনা—যার অনেকগুলোই থেকে গেছে অঘোষিত, অগোচরে।

দিনদুপুরে চলা এই পাথর লুটের কথা সবাই জানত। তবে স্থানীয় প্রশাসন জোরালো কোনো পদক্ষেপও নেয়নি। ফলে পাথর লুটও ঠেকানো যায়নি।

পাথরলুটের পেছনে কারা—এই অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, ২০০০ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অবৈধ কর্মকাণ্ড দিনে দুপুরে প্রকাশ্যেই চলে এসেছে। প্রথমদিকে শুধুমাত্র হাতুড়ি ও শাবলের সাহায্যে পাথর উত্তোলন হলেও ২০১৪ সালের পর থেকে ব্যবহার শুরু হয় পরিবেশ বিধ্বংসী ‘বোমা মেশিন’। ফলে দ্রুত ধ্বংস হতে থাকে পাহাড়, টিলা ও বনাঞ্চল।

বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় কোম্পানীগঞ্জের চিকাডহর মৌজায় 'পাথরের খনি' হিসেবে পরিচিত শাহ আরেফিন টিলা এবং মতিয়া টিলা। একসময় সবুজে ঘেরা এই অঞ্চলের মাটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। সবশেষ লুট হয়েছে ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর।

অবৈধভাবে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের সময় প্রাণহানি ঘটনাও কম হয়নি। ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি অবৈধভাবে মাটি খুঁড়ে পাথর উত্তোলনের সময় ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার পরপরই প্রশাসনের একজন কর্মকর্তাকে সরেজমিন অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব দেয় সিলেট জেলা প্রশাসন। কমিটির আহ্বায়ক ও তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহম্মদ শাহে দুল ইসলাম।


সরেজমিন পরিদর্শন ও অনুসন্ধান করে তিনি ১৭ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে উঠে আসে আর্থিক ক্ষতি, রাস্তার অবকাঠামো ধ্বংস, পাহাড়/টিলা কর্তন, বন ধ্বংস, ভূমি ধ্বস, কৃষি জমির ক্ষতি, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্ট, সামাজিক মূল্যবোধ ও অপরাধ প্রবণতা এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান।

তদন্ত প্রতিবেদনের অনুসন্ধানে জানা যায়, ঝুঁকি নিয়ে পাথর তুলতে গিয়ে কয়েক বছরে বহু শ্রমিক মারা গেছেন এবং অনেকে পঙ্গু হয়েছেন। ২০১৬ সালের ৩ ডিসেম্বর মারা যান সুনামগঞ্জ জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের লুৎফুর রহমান। ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর টিলা ধসে মারা যান আনোয়ার (৩৫) নামে একজন শ্রমিক। ঘটনার এক সপ্তাহ পর, ২২ নভেম্বর টিলা ধসে মারা যান আরও ৫ জন শ্রমিক। তবে এ ঘটনায় দুজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, উপজেলার ছনবাড়ি গ্রামের জালাল উদ্দিন (৩৫) ও ভাগারপাড় গ্রামের চুনু মিয়া (৩৫)। নিহত অন্য তিনজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি, তবে তাদের বাড়ি সিলেটের বাইরে বলে জানা গেছে। এখানেও আইনি ঝামেলা এড়াতে তাদের মৃত্যুর ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের ২৪ নভেম্বর টিলা ধসে ৪ শ্রমিক গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা জানান, প্রায় চার বছর পূর্বে টিলা ধসে মারা যান উপজেলার পাড়-য়া মাঝপাড়া গ্রামের ওয়াহাব আলী পুত্র আব্দুল কাদির (২৫), দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বেতুয়ারমুখ গ্রামের জিতু মিয়ার পুত্র নাজিম উদ্দিন (৩০) ও কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলার গজারিয়া গ্রামের মৃত শহিদ মিয়ার পুত্র আলাল হোসেন (৩২)। এর কিছুদিন পর টিলা ধসে প্রাণ হারান জালিয়ারপারের মৃত আব্দুল মন্নাফের পুত্র আব্দুল হাই (৬০)। ২০১৪ সালে মারা যান বৈশাকান্দি বাহাদুরপুর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিনের পুত্র আব্দুল কালাম (৩৮)।

অনুসন্ধানে জানা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নিম্ন আয়ের মানুষজনকে ভালো বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে জীবন বাজি রেখে ঝুঁকিপূর্ণ পাথর উত্তোলনকাজে নিয়োজিত করা হচ্ছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে আইনি ঝামেলা এড়াতে পাথর লুণ্ঠনকারীরা শ্রমিক হতাহতের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দেয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হতাহত শ্রমিক বা তাদের পরিবার ক্ষতিপূরণ পান না। অনেক সময় নিহত শ্রমিকের পরিচয় পর্যন্ত পাওয়া যায় না।

কোম্পানীগঞ্জ থানার তৎকালীন ওসি বায়েছ আলম বলেছিলেন, `বছরে ঠিক কতজন শ্রমিক মারা যান, সেই তথ্য জানা নেই।`

শাহ আরেফিন টিলা ও মতিয়া টিলা কেটে সৃষ্ট সাতান্নটি বিশাল গর্ত পরিদর্শন করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক প্রতিবেদন দেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১০ বছরে পাথর লুণ্ঠনকারী চক্রটি কয়েক হাজার কোটি টাকার পাথর উত্তোলন করে সরকারের এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করেছে।

এক দশক যাবত ৩০০টিরও বেশি ট্রাক/ট্রাক্টর প্রতিদিন প্রায় ৯০০ ট্রিপের মাধ্যমে টিলা হতে উত্তোলিত পাথর বহন করেছে। এতে এলাকার রাস্তার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়েছে, যার ফলে বারবার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

পাহাড় ও টিলা কর্তন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানীসহ পাথর লুণ্ঠনকারী গোষ্ঠী আইনের তোয়াক্কা না করে অবাধে টিলা কেটেছে। পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সময় মামলা দায়ের করা হলেও তারা পাহাড় কর্তন এবং ভূগর্ভ থেকে পাথর উত্তোলন অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয় প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো বিভিন্ন সময়ে মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানীকে শাহ আরেফিন টিলা কর্তন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করলেও জনৈক মোহাম্মদ আলীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বারবার রিট মামলা দায়ের করে ছলচাতুরীর আড়ালে টিলা কর্তন অব্যাহত রাখে।

প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট ১৩৭.৫০ একর ভূমির উপর প্রতিষ্ঠিত শাহ আরেফিন টিলায় অবস্থিত বনাঞ্চল সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয়েছে। একসময় সমগ্র টিলাটিতে বহুমূল্য ও দূর্লভ বৃক্ষ, ঔষধী ও ফলদ বৃক্ষ ছিল।

টিলার গঠন এবং মাটির প্রকৃতি দেখে বোঝা যায়, মাটি ছিল শক্ত ও সুরক্ষিত। কিন্তু নির্বিচারে টিলা কর্তন করে পাথর সংগ্রহের ফলে সমগ্র এলাকাটির মাটি লুজ হয়েছে। ফলস্বরূপ, এলাকায় ভূমি ধ্বসের ঘটনা ঘটছে ও প্রাণহানি ঘটছে।

যত্রতত্র অবাধে কেটে মাটি লুজ হওয়ায় প্রতিবছর টিলার পাশ্ববর্তী আনুমানিক ১৫০০ একর ফসলি জমির ফসল বিনষ্ট হয়েছে এবং জমির উর্বরতা কমেছে। ফলে খাদ্যশস্য উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে ও এলাকার দরিদ্র জনগণ স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।

হযরত শাহ আরেফিনের নামে খ্যাত টিলাটি ধ্বংসের আগে সবুজ বৃক্ষরাজি, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি-পাখালিসহ বন্য প্রাণির অবাধ বিচরণের ক্ষেত্র ছিল। ধ্বংসের আগে মাজারটি জিয়ারত ও পরিদর্শনের জন্য প্রচুর দর্শনার্থী আসত। টিলার চূড়ায় দাঁড়িয়ে চারিদিকে সবুজে ঘেরা উপত্যকা, দূরে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারী, ধলাই নদী, ভারতীয় পাহাড়, ভারতীয় চুনাপাথর কোয়ারী দেখা যেত।

প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে পাথর উত্তোলন। শত শত শ্রমিক টিলা কেটে ছোট ছোট গর্তে কাজ করে। প্রতিটি গর্তে ১০–১২ জন শ্রমিক কাজ করছে। গর্তগুলোর মালিকানা একাধিক ব্যক্তির হাতে থাকে। পাথর উত্তোলনে পরিবেশ বিধ্বংসী বোমা মেশিন ব্যবহার করা হয়। টিলার চূড়া থেকে শাবল দিয়ে পাথর উত্তোলন হয়, আর পাদদেশে বসানো হয় বোমা মেশিন। টিলা সংলগ্ন কৃষি জমিতেই তুলনামূলকভাবে বেশি শ্রমিক কাজ করে।

পাথর লুটের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সম্পৃক্ততা তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তদন্ত কমিটি পরিদর্শনকালে পাথর লুটের প্রমাণও পায়। এ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শাহ আরেফিন টিলা অনেকটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। এছাড়া শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭.৫০ একরের সীমানার বাইরে সংলগ্ন কৃষিজমি (চিকাডহর মৌজার ৫৫ জে.এল ভুক্ত ৬৩, ১২৫ নং দাগসহ আশপাশের দাগ) থেকেও গর্ত করে মেশিন, বেলচা, গাইতি-শাবল দিয়ে পাথর উত্তোলন চলছে। কৃষিজমিতেই অন্তত ১২–১৩টি স্থানে গর্ত করে পাথর তোলা হচ্ছে। প্রতিটি গর্তের গভীরতা কমপক্ষে ১৫–১৬ ফুট। এতে কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে। পাশাপাশি এই বেআইনি ও অপরিকল্পিত কার্যক্রম মানুষের জীবনের জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনুসন্ধানকালে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, পাথর চাপা পড়ে শ্রমিক নিহত হওয়ার পর লাশ সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে থানা পুলিশের ভূমিকা আছে। তিনি আরও বলেন, থানা পুলিশের সঙ্গে পাথর ব্যবসায়ীদের সুসম্পর্কের কারণেই ভোলাগঞ্জ ও শাহ আরেফিন টিলায় মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন বন্ধ হচ্ছে না।

শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কেউ আহত বা নিহত হলেও কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। তবে ইচ্ছে হলে কোনো কোনো গর্তের মালিক দাফন-কাফনের টাকা দিয়ে সাহায্য করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭.৫০ একরের মধ্যে ওয়াকফ এস্টেট ছিল। সংশ্লিষ্ট তহশিল অফিস থেকে জানা গেছে, বর্তমানে পুরো ১৩৭.৫০ একর জায়গা খাস খতিয়ানভুক্ত। ব্যক্তি মালিকানাধীন হলেও কৃষিজমি কেটে খনিজ আহরণ বেআইনি।

তখন জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াত মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট এলাকা পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে শাহ আরেফিন টিলা ও সংলগ্ন গর্ত থেকে ১টি বোমা মেশিন এবং ১২টি শ্যালো মেশিনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময়ে আশেপাশের শ্রমিকদের বাড়িঘরে তল্লাশি চালিয়ে পাথর তোলার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।


অনুসন্ধান করে জানা যায়, সিলেট জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় শাহ আরেফিন টিলা কাটার বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে একটি রিট আবেদন (রিট মামলা নং-৫৮৭৩/০৯) করে। এর প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে সিলেট জেলার ছয়টি উপজেলায় (সিলেট সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ) টিলা কাটার বিরুদ্ধে ২০১১ সালে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) উচ্চ আদালতে আরেকটি রিট আবেদন (রিট মামলা নং-৯৭৫০/১১) করে। এর প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে উচ্চ আদালত রায় প্রদান করে টিলা কাটাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বেলা স্থানীয় এলাকাবাসীকে নিয়ে স্থানীয় প্রেসক্লাবে একটি সভা করার প্রস্তুতি নেয়। সে সময়ে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বায়েছ আলমের কাছে নিরাপত্তার ব্যাপারে সহযোগিতা চাইলে তিনি কোনো সহযোগিতা প্রদানে অস্বীকৃতি জানান। সেজন্য সেখানে সভা করা সম্ভব হয়নি।

সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় তিনি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের ভূমিকা ও দায়িত্ব পালনের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ের গুরুত্ব বিচার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তদন্ত প্রতিবেদনটি আদালতের নজরে আনা অত্যন্ত জরুরি বলেও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ৪৭ জন পাথরখেকোর নাম উল্লেখ করে তালিকাও দেন তিনি।

তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে এই কর্মকর্তা জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি, কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয়েছে— সরকারী বেতনভুক্ত কর্মকর্তাদের চোখের সামনে পাথর লুণ্ঠনকারীরা পাহাড় কেটে অবৈধ বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে পরিবেশের ব্যাপক ধ্বংস করলেও তারা না জানার ভান করে চরম দায়িত্ব অবহেলার পরিচয় দিয়েছেন। বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ শাহেদার বক্তব্য থেকে জানা যায়, উক্ত এলাকায় দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পাথর উত্তোলনের সাথে জড়িত চক্র এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

তাছাড়া সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে একজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য দায়িত্বের প্রতি চরম অবহেলার শামিল এবং দুষ্কৃতিদের প্রতি তাঁর গোপন আতাতকে প্রকাশ করে। অপরদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি বায়েছ আলম ২৩ জানুয়ারির ঘটনার বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সত্যের অপপ্রলাপ বলে প্রমাণিত হয়েছে। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে তদন্তকারী কর্মকর্তার জীপযোগে ঘটনাস্থলে যেতে ৪০ মিনিট সময় লাগে। অথচ ২৩ জানুয়ারি প্রাণহানির ঘটনা সংঘটিত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে যেতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা: মাছুম বিল্লাহ ও অফিসার ইনচার্জ মো. বায়েছ আলম এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪ ঘণ্টা সময় লাগে কেন? এই কালক্ষেপণ কি অপরাধীদের লাশ গুমের সুযোগ তৈরি করে দেওয়ার জন্য? এবং তাদের চোখ এড়িয়ে এতগুলো লাশ কীভাবে নেত্রকোনা জেলায় পৌঁছালো? এ বিষয়টি অপরাধীদের অপরাধ আড়াল করার স্বার্থে করা হয়েছে কিনা তা অধিকতর গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরপরই সিন্ডিকেটের রোষানলে পড়েন তিনি। তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনটিও গায়েব হয়ে যায়। তবে পরবর্তীতে আদালতে সেই মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়। যার তদন্তের দায়িত্বে ছিল পিবিআই। খনি ও খনিজ সম্পদ (নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন) আইন, ১৯৯২ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫/বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ অমান্য করা হলেও পাথরখেকোদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, এসব অবৈধ পাথর উত্তোলনকারীদের পেছনে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছির এবং তার দুই ছেলে শামীম ও বিল্লাল। আব্দুল বাছিরের মেয়ে জামাই মোতাহির। শাহ আরেফিন টিলার ওয়াকফ সম্পত্তির মোতায়াল্লী জাহানারা বেগমের জামাতা লালু শাহও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।

মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী আদালতের বিভিন্ন রিট/নির্দেশনার অপব্যবহার এবং আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পুরো আরেফিন টিলাকে ধ্বংস করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে সিলেট জেলা প্রশাসনের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শহীদুল আলমকে আহ্বায়ক করে শাহ আরেফিন টিলার ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের লক্ষ্যে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে শুধুমাত্র আরেফিন টিলায় পরিমেয় ক্ষতির জন্য আর্থিক জরিমানা হিসাবে সর্বমোট ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা ক্ষতি ধার্য করা হয়েছিল। যা রাষ্ট্রীয় পাওনা হিসাবে আদায়যোগ্য এবং অপরিমেয় ক্ষতির জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রস্তাব করা হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো বাস্তবায়ন দেখা যায়নি।

এলাকার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ক্ষমতার অপব্যবহার করে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সমগ্র এলাকার অবৈধ পাথর ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছেন।

শাহ আরেফিন টিলা ও সংলগ্ন এলাকা থেকে সকল প্রকার পাথর শ্রমিক উচ্ছেদ, টাস্কফোর্স অভিযান জোরদার, পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন, ভূগর্ভে শ্রমিকের প্রাণহানির মূলহোতা আঞ্জু মিয়াকে অনতিবিলম্বে গ্রেফতার করে জয়েন্ট ইন্টরোগেশন সেলে জিজ্ঞাসাবাদ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহা: মাছুম বিল্লাহ এবং থানার অফিসার ইনচার্জ মো. বায়েছ আলমের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়াও উচ্চ পর্যায়ের মনিটরিং কমিটি গঠনের সুপারিশ করা হয়।

এছাড়াও মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মো. আলীর নিকট থেকে ২০০৯ সালে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. শহীদুল আলমের নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশমতে ২৫২ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থারও সুপারিশ করা হয়।

যেহেতু সিলেট একটি ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং ডাউকি ফল্টের খুব সন্নিকটে অবস্থিত, তাই শাহ আরেফিন টিলা ও সংলগ্ন এলাকার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে ভূতত্ত্ববিদ ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ২০০৯ সালের ন্যায় ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চতর তদন্ত কমিটি গঠন করে ব্যবস্থা নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।

শাহ আরেফিন টিলা এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ১০ বছর ধরে সরকারি সম্পত্তির যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়। সরকারী সম্পত্তি আত্মসাতের দায়ে এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত ও চিহ্নিত পাথর লুণ্ঠনকারীদের যাবতীয় সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক একাউন্ট জব্দ করে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও পরামর্শ দেওয়া হয়।

সিলেট জেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধভাবে পাথর লুটের ঘটনায় বিজিবির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। সীমান্তে পরিবেশ ধ্বংস করে পাথর উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিজিবির সেক্টর কমান্ডারকে চিঠি দিতেও সুপারিশ করা হয়।

চিহ্নিত ৪৭ পাথরখেকোর তালিকা—

চিকাডহর গ্রামের ফয়জুর রহমান, আইয়ুব আলী, আঞ্জুমিয়া, সোরাব আলী, কুদ্দুস মিয়া, আতিউর রহমান, মুহিবুর রহমান, আব্দুল করিম, নূর উদ্দীন, হেলাল উদ্দীন। শাহ আরেফিন টিলার (জালিয়াপাড়) শুক্কুর আলী, বশর মিয়া, ফারুক মিয়া, মাসুক মিয়া, সোনা মিয়া, সাদ্দাম মিয়া, আশিক মিয়া। পাড়ুয়া নোয়াগাও এর আতাউর রহমান। ভোলাগঞ্জের সোহেল মিয়া ও শাহাব উদ্দিন। শাহ আরেফিন টিলার রমজান মিয়া, হরমত উল্লাহ, নাসির মিয়া, আব্দুল খালিক, আব্দুল কাদির। পাড়ুয়া লামাপাড়ার একবার মিয়া, এনাম হোসেন, ইসনাত আলী। নতুন জালিয়ার পাড়ের ছায়ফুল ইসলাম। বাহাদুরপুরের লীলু মিয়া। পুরান জালিয়ার পাড় সমাদ মিয়া, লায়েক মিয়া, আব্দুল কালিক, নুর ইসলাম। পূর্ব নারায়নপুরের রহিম। নারাইনপুরের আব্দুল হান্নান, আব্দুর রহমান, আনাই মিয়া।

তবে এই তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে সেসময় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ, উপজেলা প্রশাসন এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা এই পাথরলুটের সাথে জড়িত ছিলো বলে প্রতিবেদনে উঠে আসে। পাথরখেকোদের তালিকা তৈরি করে তদন্ত প্রতিবেদনের সাথে জমা দেওয়া হলেও তাদের গ্রেফতার করা বা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সূত্র বলছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসকরা ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পুলিশ জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

অনুসন্ধান বলছে, ২৩ জানুয়ারি শাহ আরেফিন টিলায় পাথর তোলার সময় টিলাধসে একসঙ্গে ছয় শ্রমিকের মৃত্যু হয়। শুধু ওই বছরেই শাহ আরেফিন টিলায় ১৯টি ধসের ঘটনা ঘটে, যেখানে প্রাণহানি হয় ১৮ জনের। এর মধ্যে ১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি, ২ মার্চ, ২৭ মে আরও চারটি ধসে নয়জনের প্রাণহানি হয়। ২০ জুলাই ও ২৬ অক্টোবরের ধসে প্রাণহানি ঘটে আরও ৫ জনের।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) সিলেটের বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ২০১৭ সালে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনটি আমলে নিয়ে কাজ করার সুযোগ এখনো আছে। প্রশাসনের উর্ধ্বতন মহল যখন এই সিন্ডিকেটের হয়ে কথা বলে তখন অধীনস্ত কর্মকর্তাদের আর কিছু করার থাকে না। সরকারি সংস্থার মধ্যেও সমন্বয় থাকতে হবে। তদন্ত কমিটি যে ৪৭ জনের তালিকা করেছিল, তাদের বাইরেও অনেকে ছিলো। জনপ্রতিনিধিরাও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারাও বাধা দেননি। তখন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাই ২০২৫ সালেও তারা সক্রিয়। সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সরাসরি লুটেরাদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ভাষণ দিয়েছেন। শুধু ডিসি বা ইউএনও বদলি করলেই হবে না। তারা কাজ করতে চাইলেও পারবেন না যদি বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সাপোর্ট না পান। বিভাগীয় কমিশনার সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। তিনি আদালত অবমাননা করে ব্যবসায়ীদের সাথে একই সুরে বক্তব্য দিচ্ছেন। তার অধীনস্ত কর্মকর্তারা তখন কতটুকু কাজ করতে পারবেন, সেটা এখন ভাববার বিষয়। দুইজন বদলালেই হবে না, পুরো সেটআপ পরিবর্তন না করলে সফল হওয়া যাবে না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো— সিলেটে ব্যবসার ক্ষেত্রে সর্বদলীয় ঐক্য। এখানে ব্যবসায়িক স্বার্থ সবার আগে।

সেই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও তদন্ত কর্মকর্তা সিলেটের তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাফায়াৎ মুহাম্মদ শাহে দুল ইসলাম বর্তমানে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কর্মজীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে এটুকু বলতে পারি— রক্ষক যদি ভক্ষক হয়, কিংবা বেড়াল যদি ক্ষেতের ফসল খেয়ে ফেলে, তখন কোনো প্রচেষ্টাই কাজে আসে না।

সম্প্রতি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় পাথরলুটের ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার জের ধরে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি করা হয়েছে। বদলি করা হয়েছে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুন্নাহারকে।

২০০৪ সালের ৫ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো থেকে ১৩টি শর্তে শাহ আরেফিন টিলার ৬১ একর জমি থেকে পাথর উত্তোলনের জন্য মোহাম্মদ আলী ইজারা নেন। একই বছরের ২০ এপ্রিল তাঁর প্রতিষ্ঠান মেসার্স বশির এন্ড কোম্পানিকে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো পাথর তোলার কার্যাদেশ দেয়। কিন্তু ইজারার শর্ত ভঙ্গ করে যন্ত্র দিয়ে পাথর তুলে পরিবেশ ধ্বংস করায় সে বছরের ৫ সেপ্টেম্বর খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ইজারা বাতিল করে দেয়।

এরপর মোহাম্মদ আলী প্রভাব খাটিয়ে শাহ আরেফিন টিলার ১৩৭ একর জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করেন। অথচ তিনি ইজারা নিয়েছিলেন মাত্র ৬১ একর জমি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নিয়ে অবৈধভাবে পাথর তুলে পুরো টিলাকে বিরানভূমিতে পরিণত করেন। পাথর উত্তোলন করতে গিয়ে প্রাণ হারান অনেক শ্রমিকও।

মোহাম্মদ আলী শাহ আরেফিন টিলা থেকে কোনো নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫০ ঘনফুট সরকারি পাথর অবৈধভাবে উত্তোলন করে বিক্রি করেন। এ পাথরের বাজারমূল্য ২৫১ কোটি ৫৫ লাখ ৯০ হাজার টাকা। তিনি পুরোটাই আত্মসাৎ করেন। এ ব্যাপারে তদন্ত শেষে সরকারি পাথর আত্মসাতের দায়ে দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় মোহাম্মদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।


সর্বশেষ সংবাদ
ইলিয়াস আলী গুম-হত্যার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান হেফাজতে

ইলিয়াস আলী গুম-হত্যার অভিযোগে উইং কমান্ডার সাইফুর রহমান হেফাজতে

একরাম হত্যা: সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

একরাম হত্যা: সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ

দীঘিনালায় সরকারি আদেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়

দীঘিনালায় সরকারি আদেশ অমান্য করে ঋণের কিস্তি আদায়

বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

বিপিসির চেয়ারম্যান রেজানুর রহমানকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ শিগগির

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: স্পিকারের সঙ্গে সিইসির সাক্ষাৎ শিগগির

সেনাবাহিনীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতিতে না প্রধানমন্ত্রীর

সেনাবাহিনীতে রাজনৈতিক বিবেচনায় পদোন্নতিতে না প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

তৈরি পোশাকের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প হতে পারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত: প্রধানমন্ত্রী

তৈরি পোশাকের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্প হতে পারে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত: প্রধানমন্ত্রী

দলীয় ফোরামে ঠিক হবে নতুন রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুল

দলীয় ফোরামে ঠিক হবে নতুন রাষ্ট্রপতি: মির্জা ফখরুল

ভাঙা সড়কের গর্তে পড়ে লরির চাকায় মাথা পিষ্ট, নিহত মোটরসাইকেল চালক

ভাঙা সড়কের গর্তে পড়ে লরির চাকায় মাথা পিষ্ট, নিহত মোটরসাইকেল চালক