পেট্রোবাংলার প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (কেজিডিসিএল) সাম্প্রতিক সময়ে দেওয়া কয়েকটি পদোন্নতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, হত্যা মামলার আসামি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত এবং সরকারি চাকরিতে থেকেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে উপব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
যাদের পদোন্নতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তারা হলেন মো. ফারুক আহমদ, সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহ ও কাউছার নুর লিটন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা একাধিক মামলায় তাঁদের নাম রয়েছে। তবে এসব তথ্য পদোন্নতির সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।
কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, মো. ফারুক আহমদ বর্তমানে উপব্যবস্থাপক পদে কর্মরত। এর আগে তিনি সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় আসামি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই মামলায় তিনি জামিনও নেননি বলে জানা গেছে। এ ছাড়া সরকারি চাকরিতে থাকার সময় তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
ফারুক আহমদের চাকরিতে প্রবেশের সময় বয়সসীমা অতিক্রম করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বয়সসীমা পার হওয়ার পর তিনি পিতার নামে দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদের সুবিধা নেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যাচাইয়ে সনদটি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে সহকারী প্রকৌশলী (কারিগরি) সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহর বিরুদ্ধেও। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ কোতোয়ালি, পাঁচলাইশ ও পটিয়া থানায় দায়ের করা তিনটি গুরুতর ফৌজদারি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এসব মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি রয়েছে। চাকরিতে প্রবেশের সময় বয়সসীমা অতিক্রমের তথ্য গোপন করার অভিযোগও রয়েছে। তিনি পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ছিলেন।
অন্যদিকে, গত ১ ডিসেম্বর সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) থেকে উপব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতি পান কাউছার নুর লিটন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি চাকরিতে থাকার সময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
কেজিডিসিএলের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এসব পদোন্নতির পেছনে প্রতিষ্ঠানটির উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন মাসুদের ভূমিকা রয়েছে। পদোন্নতি কমিটির সদস্য–সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মামলার তথ্য, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, বয়সসংক্রান্ত বিষয় ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যথাযথভাবে যাচাই করেননি।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সার্ভিস রুলস ও সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামি হওয়া, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা কিংবা রাজনৈতিক পদে সক্রিয় থাকা—এসবই পদোন্নতির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার মধ্যে পড়ে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ও পদোন্নতি কমিটির সদস্য–সচিব সালাউদ্দিন মাসুদের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।