রাজধানীর বনানীতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) নিয়ন্ত্রিত সরকারি জমিতে “বনানী সুপার মার্কেট কাম হাউজিং” প্রকল্পে অনিয়ম, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে ইউনিক গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ নূর আলী ও তার প্রতিষ্ঠান বোরাক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেডের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে অনুমোদনহীন ভবনে হোটেল ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে ১১৫ কোটি ৫৮ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা অবৈধভাবে অর্জন ও তা স্থানান্তর, হস্তান্তর এবং রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২)/৪(৪) ধারায় বনানী থানায় বৃহস্পতিবার (৭ মে) মামলা দায়ের (মামলা নম্বর-১১) করা হয়।
সিআইডি সূত্র জানায়, বনানী এলাকায় ১৪ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও বোরাক রিয়েল এস্টেট চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে অনুমোদন ছাড়াই ২৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। পরে ওই ভবনে ফাইভ স্টার হোটেল “শেরাটন” পরিচালনা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ না করে এবং ডিএনসিসিকে প্রাপ্য অংশ বুঝিয়ে না দিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রভাব খাটিয়ে চুক্তি সংশোধন করানো হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, ভবন নির্মাণে রাজউক ও বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্র নেওয়া হয়নি। ফলে ভবনের উচ্চতা নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করায় বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণে ঝুঁকি ও প্রতিবন্ধকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে সিআইডি।
সিআইডি বলছে, অনুমোদনহীন ভবনে পরিচালিত হোটেল ব্যবসা থেকে অর্জিত অর্থ বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতিতে বেদখলকৃত সম্পদের প্রকৃত মূল্য নির্ধারণের পর লন্ডারকৃত অর্থের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগ। অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।