বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) অফিস সহায়ক থেকে কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। টাইপিং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষায় একাধিক প্রার্থী ‘কপি-পেস্ট’ করে উত্তীর্ণ হলেও তাদের পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্র জানায়, গত ৮ এপ্রিল অফিস সহায়ক থেকে কম্পিউটার অপারেটর পদে পদোন্নতির জন্য টাইপিং দক্ষতা যাচাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ১৪ জন কর্মচারী। চাকরির মেয়াদ পূর্ণ না হওয়ায় একজন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি এবং আরও দুজন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।
অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি টাইপিং দক্ষতা যাচাইয়ের সময় পরীক্ষার্থীদের দুই ধাপে ভাগ করা হয়। প্রথম ধাপে অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের টাইপ করা লেখা পরবর্তী ধাপের কিছু পরীক্ষার্থী কপি-পেস্ট করে নিজেদের উত্তরপত্রে ব্যবহার করেন। এভাবে অন্তত সাত থেকে আটজন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া পরীক্ষা চলাকালে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন শ্রমিক-কর্মচারী সংঘের (সিবিএ) নেতারা পরীক্ষার সময় প্রভাব বিস্তার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি টাইপিং পরীক্ষার সময় কয়েকজন সিবিএ নেতা পরীক্ষার্থীদের পাশে অবস্থান করছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সিবিএর সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদ হোসেন পাটোয়ারীর স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস। অভিযোগ রয়েছে, টাইপিংয়ে দুর্বল হওয়ায় তাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয় এবং পরবর্তী ধাপে কপি-পেস্টের সুবিধাও পান তিনি।
সূত্র আরও জানায়, অভিযোগ ওঠার পর এক দফা পদোন্নতি বোর্ড বসলেও পদোন্নতি দেয়া হয়নি। এরপর থেকে পদোন্নতি কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সিবিএ নেতাদের পক্ষ থেকে উর্ধতন কর্মকর্তাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে পদোন্নতি প্রার্থীদের জন্য বিএসসির অর্থায়নে কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা বিষয়ক পাঁচ দিনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের প্রতিদিন এক হাজার টাকা করে ভাতা এবং প্রশিক্ষককে পাঁচ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের সরকারি অর্থ ব্যয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিভাগীয় পদোন্নতি বোর্ড বসার কথা রয়েছে। এর আগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে উপসচিব মো. সোহেল পারভেজকে বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) পদে প্রেষণে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি যোগদানের আগেই তড়িঘড়ি করে পদোন্নতি সম্পন্ন করার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সূত্রের দাবি, বর্তমান মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ক্যাপ্টেন মুজিবুর রহমানের সময়েই পদোন্নতি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় সহকারী ব্যবস্থাপক (সংস্থাপন ও প্রশাসন) রাশেদা বেগম সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএসসি কর্তৃপক্ষ, পদোন্নতি বোর্ড কিংবা অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।