এক মার্কিন দম্পতি পার্টির আয়োজন করেছেন অনাগত সন্তানের 'জেন্ডার' জানার মুহূর্তটিকে স্মরণীয় করে রাখতে। 'ছেলে হবে!'—সোৎসাহে এক টিকটক ভিডিওতে ঘোষণা দেন তারা, যা পরে ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু হবু মা বেশিক্ষণ উচ্ছ্বাস দেখানোর ভান করতে পারেন না। কয়েক মুহূর্ত পরই তিনি সঙ্গীকে আঁকড়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। সঙ্গী তাকে সান্ত্বনা দেন, একদিন তাদের মেয়ে হবেই। এরপ তারা ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
'জেন্ডার রিভিল' পার্টিগুলো বেশ জমকালো হয়। কনফেটি কামান বা ধোঁয়ার বোমা ফাটিয়ে জানানো হয় অনাগত শিশুর লিঙ্গ। গোলাপি ধোঁয়া মানে মেয়ে, নীল মানে ছেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়ায় আকর্ষণীয় হ্যাশট্যাগ: #boyorgirl, #TractorsOrTiaras. কিন্তু এই উৎসবগুলোতে সন্তান ছেলে হলে কিছু হবু মায়ের হতাশা আর অতিথিদের সহানুভূতির দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জন্ম দিয়েছে এক নতুন ধারার—'জেন্ডার ডিসঅ্যাপয়েন্টমেন্ট' ভিডিও। এরকম অনেক ভিডিও ভিউ মুহূর্তেই মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। অসংখ্য পোস্টে বর্ণনা করা হয় 'মেয়ে না হওয়ায় বিষণ্ণ' অনুভূতির।
একসময় বিশ্বজুড়ে ছেলেসন্তানের প্রতি বাবা-মায়েদের ছিল প্রবল টান। অনেক সংস্কৃতিতে ছেলেরাই পারিবারিক নাম ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। ছেলেসন্তান এতটাই বেশি কাঙ্ক্ষিত ছিল যে অনেক মা-বাবা কন্যাসন্তান গর্ভেই নষ্ট করে দিতেন। এর ফলে চীন, ভারতসহ বহু দেশে মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের সংখ্যা অনেক বেড়ে যায়। তবে গত কয়েক বছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পুত্রসন্তানের প্রতি এই পক্ষপাত অনেকটা কমে এসেছে। আর উন্নত দেশগুলোতে এখন কন্যাসন্তানের প্রতি টান বৃদ্ধির লক্ষণ স্পষ্ট দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। মানব ইতিহাসে সম্ভবত এই প্রথম বিশ্বের বহু অঞ্চলে ছেলেদের দিন দিন বোঝা হিসেবে এবং মেয়েরা আশীর্বাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
স্বাভাবিক নিয়মে সাধারণত প্রতি ১০০টি মেয়েশিশুর বিপরীতে ১০৫টি ছেলেশিশু জন্মায়। এটি সম্ভবত পুরুষদের তুলনামূলক বেশি মৃত্যুহারে ভারসাম্য আনতে প্রকৃতির কৌশল। এই হার মাঝে-মাঝে ওঠানামা করে, যদিও বিজ্ঞানীরা কারণ ব্যাখ্যা করতে পারেননি। যেমন, যুদ্ধের পরপরই ছেলেশিশু জন্মের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। কিন্তু ১৯৮০-র দশকের আগপর্যন্ত—যখন আলট্রাসাউন্ডের খরচ অনেক বেশি ছিল-হবু মা-বাবার পক্ষে সন্তানের লিঙ্গ জেনে নিয়ে গর্ভপাত করার সুযোগ প্রায় ছিল না। ফলে পুত্রসন্তানের আশায় বড় পরিবার বড় হতো। শেষে ছেলেমেয়ে মিলিয়ে প্রায় সবসময়ই একটা ভারসাম্য বজায় থাকত।
'দুঃখের পোঁটলা'
তবে গত কয়েক দশকে—বিশ্বজুড়ে পরিবারগুলো যখন কম সন্তান নিচ্ছে—মা-বাবারা আর নিশ্চিন্ত থাকতে পারেননি যে তাদের অন্তত একটি ছেলেসন্তান অবশ্যই হবে। আলট্রাসাউন্ড প্রযুক্তি তাদের এনে দিল বাছাইয়ের উপায়। এর ফলে গণহারে চালানো কন্যাশিশুর ভ্রূণহত্যা।