বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি কভিড-১৯ মহামারীর পর প্রথমবারের মতো নিম্নমুখী হয়েছে ২০২৪ সালে। এ সময় পণ্যটির রফতানির পরিমাণ কমেছে ২ শতাংশ। খবর রয়টার্স।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, নিম্নমুখী চাহিদা ২০২৪ সালে জ্বালানি তেল রফতানি কমার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া শিপিং ডাটা থেকে জানা গেছে, পরিশোধন কেন্দ্র এবং পাইপলাইন অবকাঠামোয় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের জ্বালানি তেল পরিবহন ও বাণিজ্য রুটগুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে।
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে দুই বছর ধরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের দেশগুলোয় জ্বালানি তেল রফতানি কমে গেছে। এ সময় ইউরোপের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকা থেকে আমদানি বাড়িয়েছে।
এর আগে রাশিয়া ইউরোপের দেশগুলোয় সবচেয়ে বেশি জ্বালানি তেল রফতানি করত। কিন্তু বর্তমানে দেশটি ভারত ও চীনে রফতানি বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষণী প্রতিষ্ঠান কেপলারের শিপ ট্র্যাকিং ডাটা থেকে জানা গেছে, ইউরোপের অনেক পরিশোধন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। লোহিত সাগরের জাহাজে চলমান আক্রমণের কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে। ২০২৪ সালে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপের দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ২২ শতাংশ কমে গেছে।
এনার্জি কনসালট্যান্ট ও সাবেক জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী এডি ইমসিরোভিচ বলেন, ‘জ্বালানি তেল প্রবাহের এ পরিবর্তন ‘‘সুযোগসন্ধানী জোট তৈরি করছে’’। রাশিয়া, ভারত, চীন ও ইরানের মধ্যে আরো ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। পণ্যটির বাণিজ্যে পুনঃরূপ তৈরি করেছে দেশগুলো।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাণিজ্যের গতিপথ পরিবর্তনের কারণে আমদানি-রফতানি কমেছে। এ সময় পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা কমছে।’
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর দৈনিক গড়ে ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি করেছে। এ সময় বিশ্বের জ্বালানি তেল বাণিজ্যে তাদের হিস্যা ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে, যা সৌদি আরব ও রাশিয়ার পর তৃতীয় বৃহত্তম।
এছাড়া ২০২৪ সালে নাইজেরিয়ার বৃহত্তম ডাংগোটে জ্বালানি তেল পরিশোধন কেন্দ্র চালু হওয়া, কানাডার ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইনের পশ্চিম উপকূলে সম্প্রসারণ, মেক্সিকোর জ্বালানি তেল উৎপাদন হ্রাস, লিবিয়ার রফতানি সাময়িক বন্ধ ও গায়ানার রফতানি বৃদ্ধির কারণেও বাণিজ্য পথ পুনর্গঠন হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে একটি বড় হিস্যা রয়েছে নাইজেরিয়ার। কেপলার জানায়, দেশটির ডাংগোটে পরিশোধন কেন্দ্র ২০২৪ সালে প্রায় ১৩ শতাংশ অভ্যন্তরীণভাবে উত্তোলন করা জ্বালানি তেল ব্যবহার করেছে, ২০২৩ সালে যা ছিল ২ শতাংশ। ফলে ইউরোপে দেশটির রফতানি কমেছে। এ সময় নাইজেরিয়া দৈনিক গড়ে ৪৭ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করেছে।
বিশ্লেষকরা জানান, একটি বড় নিট রফতানিকারক দেশের জন্য জ্বালানি তেল আমদানি বৃদ্ধি কিছুটা অস্বাভাবিক।
এদিকে বাহরাইন, ওমান, ইরাকে নতুন পরিশোধন কেন্দ্র বৃদ্ধি ও মেক্সিকোর ডোস বোকাশে অভ্যন্তরীণভাবে উত্তোলন করা জ্বালানি তেলের ব্যবহার বাড়াবে।
কানাডা ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইন সম্প্রসারণ করেছে। বর্তমানে দেশটি অতিরিক্ত দৈনিক ৫ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে পাঠাতে সক্ষম। ২০২৪ সালে কানাডার সমুদ্রপথ দিয়ে জ্বালানি তেল রফতানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।