বয়স ‘চুরি’ ও ভুয়া সনদ দাখিল করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন–এর (বিপিসি) মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় তদন্ত কর্মকর্তাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আগামী বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদনসহ সশরীরে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভুঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেননি তদন্ত কর্মকর্তা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব ড. মোহাম্মদ রুবায়েত খান। গত ৭ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও তিনি তা জমা দিতে ব্যর্থ হন। সেদিনই আদালত ১৪ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যেও তা দাখিল করা হয়নি।
পরবর্তী শুনানিতে ১৭ ফেব্রুয়ারি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবি আদালতকে জানান, তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। এ প্রেক্ষাপটে আদালত তদন্ত কর্মকর্তাকে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ২৩ অক্টোবর সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মোরশেদ হোসাইন আজাদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক সংগঠন স্টুডেন্টস ফর সোভারেনটি–এর আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ নভেম্বর বিচারপতি জেবিএম হাসান ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অভিযোগগুলো তদন্তের নির্দেশ দেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালের ১৩ মার্চ বিপিসির উপব্যবস্থাপক (বিপণন) পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের সময় মোরশেদ হোসাইন আজাদের বয়স ছিল ৩৬ বছর ৪ মাস ২১ দিন। অথচ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সর্বোচ্চ বয়সসীমা ছিল অনূর্ধ্ব ৩৩ বছর। এ ছাড়া চাকরির আবেদনে অভিজ্ঞতা হিসেবে ‘গ্লোয়ার ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সনদ দাখিল করা হয়, যা পরবর্তী অডিটে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে। অডিট আপত্তি উঠলেও এ বিষয়ে কার্যকর তদন্ত হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়, ছাত্রলীগের প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
এ ছাড়া ২০২১ সালের ৫ ডিসেম্বর যমুনা অয়েল কোম্পানি–র মোংলা ইন্সটলেশনের তৎকালীন ব্যবস্থাপক (পরিচালন) এ কে এম জাহিদ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তারিত অভিযোগ দুদকে দাখিল করলেও তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি বলে রিটে উল্লেখ রয়েছে। রিট আবেদনে রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মোরশেদ হোসাইন আজাদকে চাকরিচ্যুত করা এবং প্রতারণা ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, গত অর্থবছরে বিপিসির মাধ্যমে তেল আমদানির সময় ডলারমূল্যে কারসাজির মাধ্যমে ৩৫৬ কোটি ৩ লাখ টাকা হেরফেরের ঘটনা তদন্তেরও অগ্রগতি হয়নি। এ অভিযোগের সঙ্গেও মোরশেদ হোসাইন আজাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে উঠে আসে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।