মোজাম্বিকে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আবারও খারাপ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিরোধী দলের নেতা ভেনান্সিও মন্ডলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে ঘোষণা দেন তিনি ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি হিসাবে শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) কাতার এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশে ফিরলে মাপুতো ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে তার নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তাকে সংবর্ধনা জানান। বিমানবন্দরে ভীড় সামলাতে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরবর্তীতে সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ভেনান্সিও মন্ডলেনের একজন সমর্থক আহত হন আরও শতাধিক।
অক্টোবরে দেশটির রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর থেকেই বিতর্কিত নির্বাচন ঘিরে বিক্ষোভের জন্ম দেন বিরোধী দলের নেতা ভেনান্সিও মন্ডলেন। পরবর্তীতে জীবননাশের ভয়ে দেশ ছাড়েন তিনি। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) মন্ডলেন রাজধানী মাপুতোর প্রধান বিমানবন্দরে উত্তেজনা ও কঠোর নিরাপত্তার মধ্যেই অবতরণ করেন। এসময় হাজার হাজার মানুষ তাকে স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে আসার পর ভেনান্সিও মন্ডলেন হাতে বাইবেল নিয়ে মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে পরেন। এসময় তাকে দেখে তার সমর্থকরা উল্লাস করতে থাকেন।
তখন সমর্থকদের উদ্দেশ্য করে ভেনান্সিও মন্ডলেন বলেন, “আমি ভেনানসিও মন্ডলেন, মোজাম্বিকের জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। জনগণের প্রকৃত ইচ্ছার দ্বারা নির্বাচিত। স্বদেশ এবং জনগণের সেবা করার জন্য আমার সম্মানের শপথ নিচ্ছি। এসময় তিনি জনগণের রাষ্ট্রপতি হিসাবে নিজেকে ঘোষণা করেন।
এরপর রাজধানী মাপুতোতে একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গিয়ে গুলি চালালে তিনজন গুলিবিদ্ধ ও কযেকজন আহত হন। ঘটনা নিশ্চিত করেন পুলিশের মুখপাত্র অরল্যান্ডো মুডুমানে।
আগামী ১৫ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে ড্যানিয়েল চ্যাপোর শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। তিনি ক্ষমতাসীন ফ্রেলিমো দলের প্রার্থী ছিলেন এবং সাংবিধানিক আদালতের দ্বারা অক্টোবরের ভোটে বিজয়ী হিসেবে নিশ্চিত হয়েছেন। ২৩ ডিসেম্বর দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক ঘোষিত চূড়ান্ত আনুষ্ঠানিক ফলাফলে চ্যাপোকে ৬৫ শতাংশ ভোটে বিজয়ী ঘোষনা করেন। বিপরিতে মন্ডলেন পেয়েছেন ২৪ শতাংশ ভোট। পর্তুগাল থেকে মোজাম্বিকের স্বাধীনতার পর থেকে ফ্রেলিমো দল গত পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতায় অসীন।
এদিকে ১১ জানুয়ারি স্থানীয় সময় রাত ৮টায় বিরোধী দলের নেতা ভেনান্সিও মন্ডলেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তিনি আগামী সোমবার (১৩ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ৫টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ হরতাল ও ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী দলের কর্মসূচি এবং ১৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে মোজাম্বিকের পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে বলে আশংকা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মোজাম্বিকে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরাও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এরআগে আন্দোলনের নামে বিদেশি নাগরিকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
মোজাম্বিক বাংলাদেশ কমিনিটির আহবায়ক আলহাজ্ব আনিছুর রহমান মোজাম্বিকে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ১৩ জানুয়ারি থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত নিরাপদে এবং ঐকবদ্ধ থেকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষা করার চেষ্টা করার পরামর্শ দিয়েছেন। পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া জন্য অনুরোধ করেছেন তিনি।