শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক মধ্যপ্রাচ্য

যুদ্ধের কিনারায় মধ্যপ্রাচ্য কোন পথে যাচ্ছে ইরান–ইসরাইল–আমেরিকা সংঘাত?

শাহ জিহাদ | ২৩ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে আবারও ইতিহাসের চাকা দ্রুত ঘুরছে। ইরান, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাত এখন আর সীমিত সামরিক অভিযানের মধ্যে নেই; এটি ধীরে ধীরে একটি বিস্তৃত আঞ্চলিক শক্তির লড়াইয়ে রূপ নিচ্ছে। প্রশ্ন একটাই—এই যুদ্ধ কোথায় গিয়ে থামবে?


প্রথম পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোতে আঘাত হানা। কিন্তু সেই “নির্ভুল আঘাত” এখন দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে পরিণত হয়েছে। আকাশে আধিপত্য থাকলেও তারা ইরানের শাসন কাঠামো ভাঙতে পারেনি। বরং তেহরান এখনও প্রতিরোধ গড়ে তুলছে, যা এই যুদ্ধকে দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।


ইরানের কৌশল স্পষ্ট—সরাসরি শক্তির লড়াইয়ে না গিয়ে অসম যুদ্ধ। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা এবং আঞ্চলিক প্রভাব ব্যবহার করে তারা প্রতিপক্ষকে চাপে রাখছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চল এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে ইরান বুঝিয়ে দিচ্ছে, এই যুদ্ধের প্রভাব শুধু সীমান্তে আটকে থাকবে না।


এই প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি সরবরাহ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচল করে। এখানে যদি পূর্ণমাত্রার সংঘর্ষ শুরু হয়, তবে তা শুধু সামরিক নয়—বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও বড় ধাক্কা হবে। ইতিমধ্যে উত্তেজনা যেভাবে বাড়ছে, তাতে হরমুজ হয়ে উঠেছে সম্ভাব্য ‘গেম চেঞ্জার’।


যুদ্ধের আরেকটি দিক ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে—এটি শুধু অস্ত্রের লড়াই নয়, অর্থনীতির লড়াইও। জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ, এমনকি অস্ত্র উৎপাদনের কাঁচামালের সংকট—সব মিলিয়ে যুদ্ধের প্রভাব বৈশ্বিক হয়ে উঠছে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর ঢেউ মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে আরও অনেক দূর ছড়িয়ে পড়বে।


তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এই যুদ্ধ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রিত অবস্থান থেকে বেরিয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত এটি একটি সীমিত আকারে পরিচালিত সংঘাত, যেখানে বড় শক্তিগুলো সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে চাইছে না। কিন্তু একাধিক ফ্রন্টে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে যেকোনো সময় এটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।


বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে তিনটি সম্ভাবনা সামনে আসে। প্রথমত, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে একটি সমঝোতা হতে পারে—যদিও এর সম্ভাবনা এখনো কম। দ্বিতীয়ত, সংঘাত সীমিত আকারে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে—যা সবচেয়ে বাস্তবসম্মত চিত্র। আর তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে—যা হবে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি।


সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, এই সংঘাত এখন একটি “স্টেলমেট” অবস্থায় রয়েছে—কেউ নির্দিষ্টভাবে জিতছে না, আবার কেউ পিছু হটছেও না। ফলে যুদ্ধ থামার চেয়ে দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা কেবল সামরিক নয়, রাজনৈতিকও—কতটা ক্ষয়ক্ষতি হলে পক্ষগুলো আলোচনার টেবিলে ফিরবে? সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে, মধ্যপ্রাচ্য আরেকটি দীর্ঘ যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে, নাকি শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতার পথ খুঁজে পাবে।

সর্বশেষ সংবাদ
কৃষকদের ৫ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

কৃষকদের ৫ বছরের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ চালিত পানির পাম্প দেওয়া হবে : প্রধানমন্ত্রী

বিএসসি থেকে মন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন সোহেল পারভেজ

বিএসসি থেকে মন্ত্রীর একান্ত সচিব হলেন সোহেল পারভেজ

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব হলেন নূর-এ-জান্নাত রুমি

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সচিব হলেন নূর-এ-জান্নাত রুমি

চট্টগ্রামে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হলেন অভিষেক দাশ

চট্টগ্রামে জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার হলেন অভিষেক দাশ

চার মাস অতিরিক্ত দায়িত্বের পর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান

চার মাস অতিরিক্ত দায়িত্বের পর পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান

বারবার রদবদলের পর বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম

বারবার রদবদলের পর বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম

সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত ৪১,৮০৬ পদের বিপরীতে পদস্থ ৩০,৩১১ জন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সরকারি হাসপাতালে অনুমোদিত ৪১,৮০৬ পদের বিপরীতে পদস্থ ৩০,৩১১ জন : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

সৃজনশীল প্রতিভাবানদেরও ঋণ দিতে বললেন অর্থমন্ত্রী

সৃজনশীল প্রতিভাবানদেরও ঋণ দিতে বললেন অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরো জোরদারে সহযোগিতা বাড়াতে চান এলজিআরডি মন্ত্রী

বাংলাদেশ-ইতালি সম্পর্ক আরো জোরদারে সহযোগিতা বাড়াতে চান এলজিআরডি মন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ : প্রধানমন্ত্রী