কর্ণফুলী নদীর নেভিগেশন চ্যানেলে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে আটকে পড়া মাল্টার পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ এমভি সিএনসি ইউরেনাস (IMO: 9760627)-কে রাতভর পরিচালিত সমন্বিত উদ্ধার অভিযানে সফলভাবে ভাসিয়ে নিরাপদে 'বি' (ব্রাভো) অ্যাঙ্করেজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জাহাজটি উদ্ধারের পরও চট্টগ্রাম বন্দরের নৌ-চ্যানেল সচল ছিল এবং বন্দর কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার দুপুর আনুমানিক ২টা ১৫ মিনিটে চীনের শিকৌ বন্দর থেকে আসা ১৭০ মিটার দীর্ঘ কন্টেইনার জাহাজটি কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলে প্রবেশের সময় স্টিয়ারিং বিকল হয়ে ২ নম্বর লাল বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে নদী মোহনার রিটেইনিং ওয়ালে আটকে যায়।
জাহাজটিতে প্রায় ৯ দশমিক ৫০ মিটার ড্রাফটে মোট ১ হাজার ২৮২ টিইইউএস (TEUs) কন্টেইনার এবং মাস্টারসহ ২৪ জন নাবিক ছিলেন। জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট এপিএল (বাংলাদেশ)।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানে বন্দরের সিনিয়র পাইলটের নেতৃত্বে টাগবোট কান্ডারী-২, কান্ডারী-৪, কান্ডারী-৬ ও কান্ডারী-১১ অংশ নেয়। এছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর শিবসা, টানেল টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রমত্ত টাগবোটও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হয়।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যরা নেভিগেশন চ্যানেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। জাহাজটির ড্রাফট কমানোর লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে কিছু কন্টেইনার খালাসের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছিল।
রাতভর টানা প্রচেষ্টার পর উদ্ধারকারী দল জাহাজটিকে সফলভাবে ভাসিয়ে ব্রাভো অ্যাঙ্করেজে নিরাপদে নোঙর করাতে সক্ষম হয়। পুরো অভিযান চলাকালে চট্টগ্রাম বন্দরের নেভিগেশন চ্যানেল সচল ছিল এবং নৌযান চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি হয়নি। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনাও ঘটেনি।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া পাইলট, টাগবোটের ক্রু, নৌ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সমন্বিত ভূমিকার প্রশংসা করেছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুত ও সফল এই উদ্ধার অভিযান দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উল্লেখ্য, দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিবাহিত হয়।