বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলে ২০০৬ সালে। সময়ের হিসাব বলছে, বাংলাদেশ এখন টি-টেয়েন্টি ক্রিকেটের ১৮ বছরের যুবক। কিন্তু ক্রিকেটের ছোট সংস্করণের এ খেলায় বাংলাদেশের উন্নতি খুঁজতে আতশকাচ লাগবে; তবুও পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।
সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের বিশ্বকাপের সবগুলো আসর খেললেও এখনো নকআউট পর্বে খেলার স্বাদ পায়নি লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ২০০৭ সালে শুরু হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নবম আসর মাঠে গড়ানোর দোড়গোড়ায়। সে হিসাবে ৮টি বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা আছে টিম বাংলাদেশের। এতগুলো বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা থাকা বাংলাদেশের সামনে আরও একটি বিশ্বকাপ। কিন্তু এ বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রত্যাশা বলতে কিছু নেই। বিশ্বকাপে উড়াল দেওয়ার আগে, দর্শকদের প্রত্যাশা কম রাখার অনুরোধ করেছিলেন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত।
আত্মবিশ্বাস না থাকার কারণ, টি-টোয়েন্টিতে এতদিনেও টিম পারফরম্যান্সে কোনো উন্নতি করতে না পারা। তবে কেন উন্নতি হচ্ছে না? যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের আগে তার একটি উত্তর দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজ থেকেই দেশের উইকেটকে দায়ী করছেন অধিনায়ক নাজমুল শান্ত। টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে না পারার জন্য আরেকবার একই কথার পুনরাবৃত্তি করলেন তিনি। অর্থাৎ ভালো উইকেটে বেশি ক্রিকেট খেলে না বাংলাদেশ। যার ফলে উন্নতিও আসে না। যার পেছনে দায়ী বাংলাদেশের লো-স্কোরিং উইকেট।
এক সাক্ষাৎকারে শান্ত বলেছেন, ‘প্রথমত আমাদের ভালো উইকেটে খেলতে হবে। অনেকেই এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখতে পারেন। তবে এটাই বাস্তবতা। আমরা খুব কম ম্যাচই ভালো উইকেটে খেলি।’
আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটারদের স্ট্রাইকরেট অনেকটাই দৃষ্টিকটু। অধিনায়ক শান্তর স্ট্রাইকরেট নিয়েই বড় প্রশ্ন। মাত্র ১০৯.৬৪ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেন তিনি। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ২০ দলের অধিনায়কদের মধ্যে স্ট্রাইকরেটে শান্তর অবস্থান ১৯তম।
টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে হলে এবং স্ট্রাইকরেট বাড়াতে হলে ক্রিকেটারদের সময় দিতে হবে। অল্প কয়েক দিন ভালো পিচে খেললেও সংকট কাটবে না। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ভালো পিচে খেলার কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অনেকটা সময়ই চেয়েছেন তিনি।
শান্ত বলেন, ‘ছয় মাসের মধ্যে সবকিছু বদলে ফেলা কঠিন। আমরা যদি ভালো উইকেটে এক-দুই বছর খেলতে থাকি, তাহলে স্ট্রাইকরেটের উন্নতি হবে।’
বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে ডি-গ্রুপে। অন্যান্য গ্রুপের তুলনায় বাংলাদেশ অনেকটা কঠিন গ্রুপেই পড়েছে। এই গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডস ও নেপাল। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ লঙ্কানদের বিপক্ষে ৮ জুন ডালাসে।