দেশের সমুদ্রসীমা ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জ্বালানিবাহী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে নৌবাহিনী।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশের জলসীমায় অবস্থানরত এলএনজি, এলপিজি এবং পেট্রোল, ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি সরবরাহের মূল উৎস ক্রুড অয়েলবাহী জাহাজ। এসব জাহাজের নিরাপদ চলাচল ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নৌবাহিনী সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
এর অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর সংলগ্ন এলাকা, গভীর সমুদ্র এবং জ্বালানি পরিবহন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নৌবাহিনীর টহল ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ও দ্রুতগামী বোট মোতায়েনের পাশাপাশি মেরিটাইম প্যাট্রোল এয়ারক্রাফট এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথ থেকেও নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সমুদ্রপথে টহল, আকাশ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং সন্দেহজনক জাহাজ বা নৌযানের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এবং দেশের জ্বালানি পরিবহন ব্যবস্থার সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমুদ্রপথে সম্ভাব্য চোরাচালান, অপতৎপরতা বা অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ অপারেশনাল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্ট গার্ড, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে নৌবাহিনী। এতে দেশের জ্বালানি আমদানি, সংরক্ষণ ও পরিবহন ব্যবস্থার নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নৌবাহিনী জানিয়েছে, দেশের সামুদ্রিক সীমা, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় তারা সর্বদা সতর্ক রয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এ ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।