মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। সরবরাহে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে একগুচ্ছ নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এর অংশ হিসেবে চারটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে—ডিপো থেকে নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ, মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার, ফিলিং স্টেশনে তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা এবং ট্যাগ অফিসার নিয়োগ।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিপিসির অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনা ও ডিপো থেকে জ্বালানি উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচী নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে জ্বালানি উত্তোলন শুরু হয়ে বেলা ৩টায় শেষ হবে। এই সময়সীমার মধ্যেই ফিলিং স্টেশন, পাম্প ও ডিলারদের প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ সম্পন্ন করতে হবে।
মাঠপর্যায়ে জ্বালানি তেল সংক্রান্ত কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য বিপিসির অধীনস্থ তিন বিপণন কোম্পানির তিন কর্মকর্তাকে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন পিওপিএলসির মহাব্যবস্থাপক (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ রোমান চৌধুরী, মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) মো. লুৎফর রহমান এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বিক্রয়) মোহাম্মদ হাসান ইমাম। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্মসচিব (অপারেশন-১) এ.কে.এম ফজলুল হকের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁরা জ্বালানি উত্তোলন, পরিবহন ও বিতরণ কার্যক্রম তদারকি করবেন। প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্বও তাঁদের ওপর ন্যস্ত থাকবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে দৈনিক জ্বালানি পণ্য গ্রহণের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি স্টেশনে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ড স্থাপন করে সেখানে জ্বালানির নাম, নির্দিষ্ট তারিখে প্রাপ্ত পরিমাণ, পূর্বের গড় প্রাপ্তি এবং প্রয়োজনীয় মন্তব্য উল্লেখ করতে হবে। ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলসহ সংশ্লিষ্ট সব পণ্যের তথ্য এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ব্যবস্থার ফলে ভোক্তারা সরাসরি সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পাবেন এবং অনিয়মের সুযোগ কমে আসবে।
মাঠপর্যায়ে নজরদারি আরও জোরদার করতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপিসির অধীনস্থ তিন বিপণন কোম্পানিকে এসব ট্যাগ অফিসারের নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর কর্তৃপক্ষকে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত যোগাযোগ ও সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়। এই ট্যাগ অফিসাররা সংশ্লিষ্ট স্টেশনের জ্বালানি পণ্য গ্রহণ, সরবরাহ এবং সর্বশেষ মজুদ পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবেন।
ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বাইরে জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোর জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দেবেন সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকরা। আর উপজেলা পর্যায়ে এ দায়িত্ব পালন করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা, যারা নিজ নিজ এলাকার পাম্পগুলোর তদারকি করবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। ইতোমধ্যে তেল ডিপো, ফিলিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহ চেইনকে নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে। প্রয়োজনে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও যৌথ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমেও অনিয়ম দমনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।