স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীনসহ রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ভুয়া পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রামের পটিয়া থেকে রিয়াদ বিন সেলিম (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাত ২টার দিকে পটিয়া পৌরসভার পাইকপাড়া এলাকায় নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ভুয়া পরিচয়পত্র, ওয়াকিটকি, হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। জব্দ তালিকায় রয়েছে—বিএনপির চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্সের (সিএসএফ) একটি ভুয়া আইডি কার্ড, একটি ওয়াকিটকি সেট, একটি মেটাল ডিটেক্টর, সিগন্যাল লাইট, ‘মনিটরিং সেল’ পরিচয়পত্র এবং একাধিক মোবাইল ফোন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানায়, রিয়াদ বিন সেলিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের শীর্ষ ব্যক্তি ও মন্ত্রীদের সঙ্গে সম্পাদিত বা এআই-নির্মিত ছবি ব্যবহার করে নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করতেন। এভাবে তিনি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে তদবির বাণিজ্য চালাতেন। এছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে তদবির বাণিজ্য করতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
একটি মামলার অভিযোগে জানা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বারের মো. কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তির স্ত্রীর কাছ থেকে স্বামীর দ্রুত জামিন করিয়ে দেওয়ার আশ্বাসে বিকাশে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে নগদ ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন তিনি। এ ঘটনায় পটিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আসামির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আকবরশাহ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এবং চান্দগাঁও থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রয়েছে। এবং তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
তার মোবাইল ফোন ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণ শেষে পুলিম জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ‘ট্যাক্স ইন্সপেক্টর’, ‘কন্ট্রোল ও সার্ভার ইনচার্জ’ ইত্যাদি পদে চাকরি দেওয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়াও ভুয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য দিয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণাকে পেশা হিসেবে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে ঠকিয়ে আসছিলেন রিয়াদ বিন সেলিম। এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ।