পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া হাটের ইজারাদার রাজীব হোসেন এফসিএর গাড়ি আটকে চালককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাজীব হোসেনের গাড়ি থামিয়ে চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ফাহাদ ও তাঁর লোকজন। একপর্যায়ে বৃদ্ধ চালককে মারধর করা হয়। এ সময় গাড়িতে থাকা রাজীব হোসেন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলে তাঁকেও হেনস্তার মুখে পড়তে হয়। পরে স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
ভুক্তভোগী চালকের দাবি, মোটরসাইকেল থেকে তাঁর গাড়িতে কয়েক দফা ধাক্কা দেওয়া হয়। কারণ জানতে চাইলে ছাত্রদল সভাপতিসহ কয়েকজন ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাঁকে মারধর করেন। চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে গাড়ির মালিকের প্রতিও আক্রমণাত্মক আচরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে এক বৃদ্ধ ব্যক্তির সঙ্গে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ। তাঁর দাবি, তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, যানজটের কারণে সামনে থাকা গাড়িটিকে সাইড দেওয়ার জন্য হর্ন দেওয়া হয়েছিল। পরে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় গাড়িচালক তাঁর হাত ধরে টান দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল ওই বাদানুবাদের অংশবিশেষ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্রসংগঠনের উপজেলা পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।