চট্টগ্রাম মহানগরের চান্দগাঁওয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মিছিলের ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য সম্প্রচার, জনমনে ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে মহানগরের চান্দগাঁও থানায় মামলাটি করেন উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম।
মামলায় চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, ১৯ নম্বর দক্ষিন বাকলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি গোলামুর রহমান চৌধুরী রিজান, ছাত্রলীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন মেহরাজ, মো. শাখাওয়াত হোসেন, আবু হানিফ, মো. লোকমান, মো. রুবেল, রুবায়েত, মো. জামাল উদ্দিন, মো. মিনহাজ, মো. জাহেদের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও ৪০ থেকে ৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে মামলার বাদী উপ-পরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম উল্লেখ করেন, গত ২০ মে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কাপ্তাই রাস্তার মাথায় অবস্থানকালে তিনি গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনমনে ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশে লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল নিয়ে ইস্পাহানি জেটি রোডের মুখে ও মেগা হেলথ কেয়ার এন্ড ডায়াবেটিক সেন্টারের সামনে অবস্থান করছে। সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটের দিকে ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আসামীরা সরকারবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানসহ মিছিল করতে করতে কৌশলে অলি-গলি দিয়ে দিগ্বিদিক দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মো. আলাউদ্দিন ওরফে মেহেরাজ, মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং মো. লোকমান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আসামিরা ছাত্রলীগের নামে বিভিন্ন স্লোগান ও সরকারবিরোধী উসকানিমূলক স্লোগান দিয়ে হাতে লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল নিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম করছিল। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার আসামীদের দেয়া তথ্যে আসামিদের ফেলে যাওয়া ৯টি বিভিন্ন সাইজের লাঠি, ৪টি লোহার রড (প্রায় ২২ থেকে ২৫ ইঞ্চি লম্বা), ৬টি এসএস পাইপ (প্রায় ১৮ থেকে ২০ ইঞ্চি লম্বা) এবং নাশকতার কাজে ব্যবহৃত ১২টি বিভিন্ন সাইজের ইট ও পাথরের টুকরো জব্দ করেন তিনি।
আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তিনি জানতে পারেন যে, পলাতক ও অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জন সরকারের নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কাজ পরিচালনা করতে ঘটনাস্থল, আশপাশে অবস্থান, রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, জনমনে ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার কথা আসামীরা স্বীকার করে।
এর আগে ২০ মে সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ১৯ নম্বর দক্ষিন বাকলিয়া ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি গোলামুর রহমান চৌধুরী রিজানের নেতৃত্বে চান্দগাঁও এলাকায় মিছিল করে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।