চট্টগ্রামের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গুমাই বিলে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কাটার ব্যস্ততা শুরু হয়েছে কৃষকদের। তিন হাজার দুইশো হেক্টর আয়তনের গুমাই বিলে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। যেখানে গতবছর প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে ধান পাওয়া গেছে ৫ দশমিক ১ মেট্রিকটন সেখানে এবছর ৫ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৫ মেট্রিকটন উৎপাদন হয়েছে।
চন্দ্রঘোনা, মরিয়মনগর, হোছনাবাদ ও স্বর্নিভর রাঙ্গুনিয়া ইউনিয়নের বিলের কৃষকরা বন্যা-সহিষ্ণু আধুনিক জাতের ব্রি ধান৫১ ও ব্রি ধান৫২ আবাদ করে। এছাড়াও আমন মৌসুমে ব্রি ধান৪৯, ব্রি ধান৭৫, ব্রি ধান৮৭, ব্রি ধান৯৫ এবং ব্রি ধান ১০৩ আবাদ করে কৃষকরা বাম্পার ফলন পেয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, গতবছরের চেয়ে এবার ফলন ভালো হয়েছে। আগের বছর প্রতি হেক্টর জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ১ মেট্রিক টন এবার সেখানে ৫ দশমিক ৩ থেকে ৫ দশমিক ৫ মেট্রিক টন ফলন হয়েছে। কৃষকদের আমরা বন্যাসহনশীল যে জাত গুলো আছে সেগুলো রোপন করতে উৎসাহিত করেছি। এছাড়া বন্যার পানির কারণে পলি জমে জমির উর্বরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকদের এখন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে জলমগ্নতা সহনশীল ধান উৎপাদনের জন্য।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউড থেকে জানা গেছে ব্রি-৫১ ও ৫২ জাতের ধানের চারা ১৪ দিন পানির নিচে থাকলেও কোনো ক্ষতি হয় না। জলমগ্নতা সহনশীল নাভি জাতের ধান বিআর-২২ ও ২৩ দেখতে পাইজামের মতো। বন্যার কারণে চাষাবাদ পিছিয়ে গেলেও এসব জাতের ধানে উৎপাদন ও চাহিদা ঠিক থাকবে। মাঝখানে কয়েকদিন বিরতি দিয়ে কোনো কারণে পর পর দুবার বন্যা হলে ২৮ দিন পর্যন্ত পানির নিচে থাকলে সমস্যা হবে না এসব জাতে, এতে আমনের স্বাভাবিক উৎপাদন সম্ভব।’