রাজধানীর গুলশান–১ এলাকায় কনকর্ড গ্রুপের একটি সুউচ্চ নির্মাণাধীন ভবন থেকে লোহার রড পড়ে আশফাক চৌধুরী পিপলু (৪০) নামে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নিহত আশফাক চৌধুরী চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পুকুরিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বরুমচড়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি গুলশানের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘জাগরণী ক্লাব’-এর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।
পারিবারিক ও মামলা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে গুলশান–১ এর ১৪০ নম্বর রোডের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে একজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন আশফাক। এ সময় হঠাৎ কনকর্ড রিয়েল এস্টেটের একটি নির্মাণাধীন সুউচ্চ ভবনের ওপর থেকে একটি লোহার রড নিচে পড়ে সরাসরি তাঁর মাথায় বিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভবনের নিচের অংশ পার্কিং কন (লাল প্লাস্টিকের কাঠামো) দিয়ে আংশিকভাবে ঘেরা থাকলেও ওপর থেকে ভারী নির্মাণসামগ্রী পড়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি প্রতিরোধে কার্যকর কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়নি।
এ ঘটনায় নিহতের শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে কনকর্ড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহরিয়ার কামাল, চেয়ারম্যান এস এম কামাল উদ্দিন, প্রকল্প ইনচার্জ আল আমিনসহ অজ্ঞাত আরও ১০–১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ৩০৪ক ধারায় (অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু) মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় সেফটি নেট, প্রটেকটিভ শেড ও নির্মাণসামগ্রী সুরক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এটি সরাসরি অবহেলাজনিত মৃত্যু।
নিহত আশফাক চৌধুরী স্ত্রী, এক কন্যাসন্তান, মা–বাবা ও ভাই–বোনসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন। ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর মরদেহ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, প্রথম দিকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কেবল ‘একটি নির্মাণাধীন সুউচ্চ ভবন’ উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করা হয়নি, যা ন্যায়বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তাঁরা সঠিক তথ্য তুলে ধরে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।