প্রতিষ্ঠার প্রায় পাঁচ দশক পর অবশেষে নিজস্ব স্থায়ী কার্যালয়ে ফিরেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। চট্টগ্রামের সার্সন রোডের জয়পাহাড় এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব জমিতে নির্মিত আধুনিক স্টিল স্ট্রাকচার ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলায় ইতোমধ্যে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের ভাড়া অফিসের ব্যয় থেকে মুক্ত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় এই জ্বালানি সংস্থাটি।
বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময়েও সংস্থাটির নিজস্ব কার্যালয় ভবন নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ১৯৯০ সালে প্রধান কার্যালয় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে স্থানান্তরের পরও ভাড়া করা ভবনেই চলেছে বিপিসির কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ২০০১ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত চট্টগ্রামের বিএসসি ভবনে বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা হারে ভাড়া পরিশোধ করেছে বিপিসি। সে হিসাবে ২৫ বছরে কার্যালয় ভাড়া বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। নিজস্ব ভবনে কার্যক্রম শুরু হওয়ায় এখন থেকে এ ব্যয় আর হবে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ২০০৫ সালের পর বিপিসির নিজস্ব ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘদিন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টার উদ্যোগে ভবন নির্মাণের কাজ গতি পায়। দ্রুততম সময়ে স্টিল স্ট্রাকচার ভবন নির্মাণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। এরপর নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হয়।
বিএসসি ভবনে বিপিসির ভাড়ার মেয়াদ শেষ হওয়া এবং ওই ভবনে মেরামতকাজ শুরু হওয়ায় নতুন কার্যালয়ে কার্যক্রম স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে নতুন ভবনের দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত বিপিসির দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে।
বিপিসি সূত্র জানায়, চট্টগ্রামের সার্সন রোডের জয়পাহাড় এলাকায় সংস্থাটির নিজস্ব প্রায় ৩০ একর জমি আছে। সেই জমিতেই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। ভবনের নকশা ও নির্মাণকাজের মান নিশ্চিতে পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছে মডার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করেছে নৌবাহিনীর অধীন চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড।
ভবন নির্মাণে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আধুনিক স্টিল স্ট্রাকচার প্রযুক্তিতে নির্মিত ভবনটিতে লিফট, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা ও প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, বোর্ডরুম, পৃথক সভাকক্ষ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠনের জন্য কক্ষ এবং ৩০০ থেকে ৪০০ জন ধারণক্ষমতার হলরুমসহ বিভিন্ন সুবিধা রাখা হয়েছে।
প্রকৌশল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টিল স্ট্রাকচার ভবনের অন্যতম সুবিধা হলো তুলনামূলক কম সময়ে নির্মাণ করা যায়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে নকশায় পরিবর্তন এনে ভবন সম্প্রসারণের সুযোগও থাকে।
প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে ভাড়া ভবনে কার্যক্রম পরিচালনার পর নিজস্ব কার্যালয়ে যাত্রা শুরু করাকে বিপিসির সাংগঠনিক অবকাঠামোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে একদিকে যেমন দীর্ঘদিনের বড় অঙ্কের ভাড়া ব্যয় বন্ধ হবে, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংস্থাটি পাবে স্থায়ী ও আধুনিক দাপ্তরিক অবকাঠামো।