অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপনের অভিযোগ তুলে তা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ইস্টার্ন রিফাইনারি এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ)। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এ দাবিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান ও সচিব এবং ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে সিবিএ। সংগঠনের সভাপতি দেওয়ান মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রহমান স্মারকলিপিতে সই করেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, গত ১৫ আগস্ট একটি দৈনিক পত্রিকায় ‘টিকে গ্রুপের বিনিয়োগে দেশের সর্ববৃহৎ রিফাইনারী উৎপাদনে আসছে মার্চে’ এবং ২৩ আগস্ট একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ‘আবেদন নাকচের পরেও রিফাইনারী বানাচ্ছে সুপার পেট্রোকেমিক্যাল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিবিএ বলেছে, টিকে গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি চট্টগ্রামের জুলদায় ১৭ লাখ টন অতিরিক্ত সক্ষমতার একটি রিফাইনারি নির্মাণ করছে এবং প্রকল্পটির ৮০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিবিএর দাবি, ‘বেসরকারি পর্যায়ে রিফাইনারি স্থাপন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিপূর্বক মজুদ, প্রক্রিয়াকরণ, পরিবহন ও বিপণন নীতিমালা-২০২৩’-এর আওতায় সুপার পেট্রোকেমিক্যালের অনুমতি চেয়ে করা আগের আবেদন নাকচ করা হয়েছিল।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিদ্যমান রিফাইনারি হিসেবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিপিসির একটি কমিটি গঠিত হয় এবং কমিটির প্রতিবেদন ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো হয়। পরে ২০২৫ সালের ১৬ নভেম্বর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আবেদনটি নাকচ করে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠানটি আবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি, মজুদ, পরিবহন ও প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে উৎপাদিত জ্বালানি নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বিপণনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করে। সিবিএর দাবি অনুযায়ী, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিপিসির ১০১৭তম বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের চূড়ান্ত অনুমোদন না থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ওই কার্যক্রমের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
এর মধ্যেই গণমাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির রিফাইনারি নির্মাণ ও উৎপাদনে যাওয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে সিবিএ। পরে গত ২৫ আগস্ট প্রকাশিত সংবাদের সত্যতা যাচাই এবং বিপিসির অবস্থান স্পষ্ট করতে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে প্রতিষ্ঠানটির প্ল্যান্ট পরিদর্শন করে প্রসেসিং সক্ষমতা বৃদ্ধির তথ্যসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
সিবিএ স্মারকলিপিতে বলেছে, কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে এবং ২০২৩ সালের নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সংগঠনটি অনুমোদন ছাড়া বেসরকারি রিফাইনারি স্থাপনের প্রক্রিয়া বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
এ ছাড়া দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে সিবিএ। স্মারকলিপিতে বলা হয়, ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন সক্ষমতা আরও ৩০ লাখ টন বাড়াতে ‘এক্সপ্যানশন অ্যান্ড মডার্নাইজেশন অব ইস্টার্ন রিফাইনারি’ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সিবিএর দাবি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান অনুমোদন ছাড়া রিফাইনারি স্থাপন করলে রাষ্ট্রীয় রিফাইনারির সক্ষমতা সম্প্রসারণের এ প্রকল্প বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তাই অনুমোদনহীন রিফাইনারি স্থাপনের প্রক্রিয়া বন্ধের পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইস্টার্ন রিফাইনারির সম্প্রসারণ প্রকল্পটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।